গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ নির্বাচন : দলীয় প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে ধানের শীষ প্রতীকে আর আগ্রহ নেই তার। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভায় আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিসকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে তার একদিন পরই দলীয় মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়ে মহিউস সুন্নাহ জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

এ অবস্থায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। দলটির প্রার্থী হতে রাজী হচ্ছেন না কেউই।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। গত ৩১ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এতে শূন্য হওয়া মেয়র পদের আগামী ৩ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ৩ সেপ্টেম্বর এই পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়লেও এক্ষেত্রে অনেকটাই নির্ভার আওয়ামী লীগ। এবারও সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলীয় বিদ্রোহীর কাছে পরাজিত হন পাপলু।

বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন ও মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী দু’জনই দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে ‘এলাকাবাসীর চাপ’-এর কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এলাকার লোকজন চাচ্ছে না কোনো দলীয় প্রতীকে তারা প্রার্থী হন, একারণে দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন তারা।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হলে পুলিশী হয়রানি, প্রচার প্রচারণায় বাধা ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা থেকে তারা ধানের শীষের প্রতীকে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে আজ জরুরী বৈঠক ডেকেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

দলীয় মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস বলেন, বিএনপি থেকে আমাকে মনোনয়ন প্রদান করা হলেও আমার এলাকার ভোটাররা চাচ্ছে আমি যেন কোনো দলের প্রার্থী না হই। এজন্য আমি এলাকাবাসীর স্বার্থে মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একই ধরণের কথা জানিয়েছেন গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিনও।

বিএনপির নেতারা দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হতে কেন আগ্রহী নন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহি জানান, কেন বিএনপির প্রার্থীরা মনোনয়ন নিতে আগ্রহী নন বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ সন্ধ্যায় আমরা জরুরী বৈঠক ডেকেছি। এই বৈঠকে বিএনপির নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা খুরশেদ আলম জানান, এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ৯ সেপ্টেম্বর। ১০ সেপ্টেম্বর বাছাই এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ সেপ্টেম্বর।