বৃহস্পতিবার সিলেটে নতুন কারাগারের উদ্বোধন

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ ডেস্ক ::

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাত বছর পর উদ্বোধন হচ্ছে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। দুই হাজার বন্দির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কারাগারটির উদ্বোধন হবে বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর)।

সেদিন সকাল ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল বলেন, উদ্বোধনী দিনকে স্মরণীয় করতে কারাগারে আলোকসজ্জার কাজ চলছে। উদ্বোধনের পর ডিসেম্বর নাগাদ নতুন কারাগারে কিছু বন্দিকে স্থানান্তর করা হবে।

তবে নতুন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের স্থানান্তর করা হবে। অবশ্য নতুন কারাগার হলেও ২০০ বছরের পুরাতন কারাগারটিও ব্যবহার করা হবে বলে জানান আব্দুল জলিল।

২০১০ সালে সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রচেষ্টায় নগরীর উপকণ্ঠ সদর উপজেলার বাদাঘাট চেঙ্গেরখাল নদীতীরে নতুন এ কারাগার নির্মাণ এবং পুরাতন কারাগার এলাকায় নগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য পার্ক নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র মতে, বাদাঘাট এলাকার অভ্যন্তরে ১৬ একর ও বাইরে ১৪ একর জমি নিয়ে মোট ৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত নতুন কারাগার। যেখানে স্থাপনা করা হয়েছে ৫৯টি ভবন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭ কোটি টাকা প্রক্কলন ব্যয় ধরে কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ করতে ব্যয় দাঁড়ায় ২৭০ কোটি টাকায়। কারাগারে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ১শ’ শয্যার পাঁচতলা বিশিষ্ট চারটি হাসপাতাল, স্কুল ও লাইব্রেরি ভবন ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের জন্য একশ ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রায় ২ হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতার নতুন কারাগারে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট ৪টি ভবন, নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে দ্বিতল বিশিষ্ট দু’টি ও ৪ তলা একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। কারাগারে করা হয়েছে ৪ টি হাসপাতাল। রান্নার কাজের জন্য এক তলা বিশিষ্ট ভবন করা রয়েছে ৫টি। স্টোর রুম বা খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন। কারাগারে দ্বিতল বিশিষ্ট রেস্ট হাউসও করা হয়েছে একটি। রয়েছে চার তলা বিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার কক্ষ এবং প্রশাসনিক কার্যালয় করা হয়েছে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আব্দুল জলিল আরো জানান, কারাগারের বর্তমান ৪৫৫ জনবলের মধ্যে ৩৯৯ জন রয়েছেন। বাকি পদগুলো শূন্য। এই জনবল দ্বারা ৩ শিফটে দায়িত্ব পালন করেন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন কারাগার চালু হওয়ার পর দুই কারাগারে এই জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে হবে। আর নতুনটি চালু হওয়ার পর লোকবল আরো বাড়ানোর চাহিদা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিসংখ্যা রয়েছেন ২ হাজার ২৮৭ জন। এরমধ্যে নারী বন্দি ৬৭ জন এবং ফাঁসির আসামি রয়েছেন ৬৫ জন।

১৭৮৯ সালে ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক শাসনামলে সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল ধোপাদিঘীর পাড়ে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। পুরাতন কারাগারের অভ্যন্তরে ১০ একর এবং বাইরে রয়েছে প্রায় ১৫ একর ভূমি।

১৯৯৭ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরের পর এর ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় এক হাজার ২১০-এ। বতর্মানে এই কারাগারে বন্দি রয়েছে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ। ফলে বাথরুম ব্যবহার থেকে শুরু করে সবজায়গাতেই অসুবিধার সম্মুখীন হন বন্দিরা। বিপত্তিতে পড়া বন্দিরা বাথরুম ব্যবহার ও গোসল করতে তাদের লাইনে দাঁড়াতে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী ২০১১ সালে আগস্টে সিলেট নগরী থেকে ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী সিলেট সদর উপজেলার বাদঘাটে ৩০ একর জমির উপর আধুনিক সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। নতুন কারাগার স্থাপনের কারণে এসব সমস্যা কাটিয়ে থাকবে না, মনে করছেন কারা কর্তৃপক্ষ।