স্বস্তির জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক ::

ব্রেন্ডন টেলর আর পিটার মুরের জুটি অস্বস্তিতে রেখেছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু জিম্বাবুয়েকে শেষ দিনে আর দাঁড়াতে না দিয়ে দুই সেশনের মধ্যেই বাকি সব উইকেট তুলে সফরকারীদের ২২৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। মিরপুর টেস্ট বাংলাদেশ জিতল ২১৮ রানের বড় ব্যবধানে। জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানে হারিয়ে দুই টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের কাজটা একটু এগিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। তুলে নিয়েছিল ২ উইকেট। এরপর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ টেস্টের শেষ দিনের শুরুতে আরও দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। পরে পিটার মুর-চাকাভারা হুড় মুড়িয়ে আউট হয়ে যান। তবে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন টেইলর।

চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে দুই ওপেনার মাসাকাদজা এবং ব্রেইন চেরি ঝড়ো শুরু করেন। কোন উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলেন ৬৮ রান। তবে রোদমরা বিকেলে মিরাজ-তাইজুল দুই ওপেনারকে তুলে নেন। শেষ দিনে জিম্বাবুয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৬৭ রান। আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট।

এর মধ্যে সকালের সেশনে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ফেরেন শন উইলিয়ামস। এরপর তাইজুল ফেরান সিকান্দার রাজাকে। এরপর মুরকে ফেরান মিরাজ। আর চাকাভা রান আউটে কাটা পড়েন।

প্রথম সেশনে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম। তারপরই টেলরের সঙ্গে মুরের প্রতিরোধে লাঞ্চের বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাদের ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। মুরকে ১৩ রানে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান তিনি। কিছুক্ষণ পর রেজিস চাকাভা মাত্র ২ রান করে রান আউট হন। মুমিনুল হকের থ্রো থেকে সহজেই তাকে রান আউট করেন মুশফিকুর রহিম।

জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিলে এরপর যোগ দেন ডোনাল্ড তিরিপানো। মিরাজের বলে রানের খাতা না খুলেই লিটন দাসকে ক্যাচ দেন তিনি। আবারও এই বাংলাদেশি স্পিনারের ভেল্কিতে ব্রেন্ডন মাভুতা ধরা পড়েন তাইজুলের হাতে।

মিরাজ তার পঞ্চম উইকেট তুলে নেন টেলরকে ১১০ রানে আউট করে। ৪ রানে টেলর ও ২ রানে উইলিয়ামস বৃহস্পতিবার ক্রিজে খেলতে নামেন। ২ উইকেটে ৭৬ রানে তাদের দিন শুরু করে।

এর আগে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে ৪৪৩ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। এরমধ্যে প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ চাইলে ফলোঅন করাতে পারতো জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু পঞ্চম দিনে ব্যাট করার ঝুঁকি নেননি তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে মিঠুনের ফিফটি এবং মাহমুদুল্লাহ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

দলের হয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ মিঠুন ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৮ রানের জুটি গড়েন। মিঠুন থামেন ৬৭ রানে। তবে মাহমুদুল্লাহ আট বছরেরও বেশি সময় পরে (১০১ রান) সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি পাওয়া মেহেদি মিরাজ খেলেন ২৭ রানের হার না মানা ইনিংস। জিম্বাবুয়ে তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান তোলে। জিম্বাবুয়ের হয়ে সেঞ্চুরি করেন টেইলর। এছাড়া পিটার মুর করেন ৮৩ রান।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৫২২ রান করে ইনিংসে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে মুশফিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পান। অপরাজিত থাকেন ২১৯ রানে। মুমিনুল করেন ১৬১ রান। বল হাতে ১০৭ রানে ৫ উইকেট নেন তাইজুল। এছাড়া মেহেদি মিরাজ নেন ৩টি ও আরিফুল হক টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেট পান।