ফেরিওয়ালার বেশে র‍্যাবের এএসপিঃ অত:পর…

সিলেটে ব্ল্যাকমেইলিং ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৯। আজ বিকেল ৪ ঘটিকায় সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার উপজেলাধীন আরিস খার টিলা এলাকা হতে বিয়ানিবাজার থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামি ফখরুল ইসলাম(২৫)কে আটক করা হয় বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে। প্রবাসী এক তরুণীর নগ্ন ছবি ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়াসহ ব্ল্যাকমেইলিং এ অভিযুক্ত এই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে র‍্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীম অভিনব উপায় অবলম্বন করেন। ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশ ধারন করে আসামির সম্ভাব্য অবস্থানস্থল নিজেই রেকি করে আসেন তিনি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চার বছর আগে বিয়ানিবাজার উপজেলার আরিসখার টিলা এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলামের সাথে প্রবাসী জনৈক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও চ্যাটের সময় কৌশলে ওই তরুণীর নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে নেয় আসামি ফখরুল। পরবর্তীতে এসব ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এই প্রবাসী তরুণীর কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থও হাতিয়ে নেয় সে। এক পর্যায়ে টাকা প্রদান বন্ধ করে দিলে ক্ষিপ্ত ফখরুল ভিডিওগুলো হোয়াটসঅ্যাপ মারফত ওই তরুনীর নিকটাত্মীয়দের নিকট পাঠিয়ে দেয়।এ প্রেক্ষিতে তরুণীর ভাই কর্তৃক বিয়ানিবাজার থানায় জিডি এবং র‍্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি উদঘাটন ও আসামি আটক মাঠে নামেন এএসপি আনোয়ার শামীম।

প্রসঙ্গক্রমে এই র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, বিপদ আঁচ করতে পেরে অত্যন্ত চতুর স্বভাবের এই অপরাধী অপরিচিত লোকদের দৃষ্টি এড়িয়ে চলতে শুরু করে। তাই র‍্যাব-৯ এর সম্মানিত সিও উইং কমান্ডার আসাদুজ্জামান স্যারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি পণ্য ফেরি করার অজুহাতে তার সম্ভাব্য অবস্থানস্থলগুলোতে ঘুরেঘুরে রেকি করতে থাকি। এবং সেই সূত্রেই আজ তরুণীর ভাই কর্তৃক পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রেমের নামে নারীর গোপন ভিডিও ধারন ও প্রকাশের মতো ঘৃণিত অপরাধকে নারী অগ্রযাত্রার অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এমন অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এএসপি আনোয়ার শামীম।
আটকের পর আসামি ফারুককে বিয়ানিবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে মর্মে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়।