আ.লীগ নেতা শামীম অবশেষে মুখ খুললেন

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ ডেস্ক ::::

মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দুপুরে ইন্তেকাল করেছে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ইনতাজ মিয়া। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।

গত কয়েকবছর আগে মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় ইনতাজ। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রচুর টাকার। ইনতাজের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। চলতে থাকে তার চিকিৎসা। এক পর্যায়ে ইনতাজের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ নিজে বহন করবেন বলে জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম শামীম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সারোয়ার লাক্সমী।

কিন্তু ইনতাজের বন্ধু ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের দাবী, চিকিৎসাভার নেয়ার ঘোষণা দিলেও পরে আর ইনতাজের কোন খোঁজ নেননি আওয়ামী লীগ নেতা শামীম। এখন ইনতাজের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামীমের উপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন সহকর্মীরা।

এমন অবস্থায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম শামীম। স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ইনতাজ মির্জা মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছে ইন্নালিহী ওয়াইন্না ইলাইহী রাজিউন। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি আল্লাহ যেনো তাকে বেহেস্ত নসিব করেন -আমীন।

ইনতাজের মৃত্যু নিয়ে সিলেটের আওয়ামী পরিবারের কিছু সংখ্যক ছোট ভাই আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ ও পোর্টালে আমি ও আমার স্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্ত যা আমাকে ভিষণ মর্মাহত ও বিধ্বস্ত করেছে তাই এহেন পরিস্থিতিতে সত্য বিষয়টি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা কর্তব্য বলে মনে করি।

আমি মনে প্রাণে ছাত্রলীগকে ভালোবাসি কারণ ছাত্রলীগ করার কারণে তিন বার মৃত্যুর মুখ থেকে আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় বেঁচে যাই। কিন্তু এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছি। আওয়ামীলীগের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে কাজ করছি নেত্রীর স্নেহে উজ্জ্বিবিত হই। ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের কোন বিপদ দেখলে স্বেচ্ছাপ্রনোদিত হয়ে সাহায্য সহযোগিতা করি এবং করবো।

ইনতাজকে আমি চিনতাম না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ক্যান্সার আক্রান্তের খবর জেনে লন্ডন থেকে ম্যাসেঞ্জারে তার নাম্বার নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করি এবং কিভাবে সাহায্য করতে পারি তখন সে জানায় একটি ক্যামো’র জন্য ৫০,০০০ পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগবে। আমি মহানগর কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রাসেল, মহানগর তাঁতীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান সুমন, ১৬ নাম্বার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমিত, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হামিদ ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ হুরুজ্জামানকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে তার বাসায় পাঠাই এবং তারা ইনতাজের হাতে টাকা দেন (টাকা দেয়ার ছবি সংযুক্ত আছে)। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানী সিলেটে গিয়ে আমার বাসায় গেলে আমি তাকে ফোন করে ইনতাজকে দেখে যেতে বলি রাব্বানী ও ইনতাজকে দেখে তার নিজের দুই হাজার টাকা দিয়ে আসে।

কিন্তু টাকা পাওয়ার পর ইনতাজ আমাকে ধন্যবাদও দেয়নি তাই আমি ম্যাসেঞ্জারে লিখি কিরে ধন্যবাদ দিলে না। পরে সে ক্ষমা চায় আমি ও ক্ষমা করি। এরপর সে স্ট্যাটাসও দেয়, তার কয়েকমাস পর আমি দেশে যাই যাই এবং তাকে জানাই কিন্তু সে আমাকে কোন ফোন ও দেয়নি দেখাও করেনি। এরমধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি হয়ে গেলে আমার আমন্ত্রণে রাব্বানী সিলেট আসে আমরা হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত শেষে হজরত শাহপরান এর মাজার থেকে বেরিয়ে গাড়ীতে উঠতে যাবো তখন দেখি ইনতাজের মতো লাগছে তখন আমি একজনকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে তাকে ডাকি এবং কুশলাদী বিনিময় করি সে বলে তার মাথার চুল উঠে গেছে সে এখন সুস্থ্য। আমি তাকে আমার দেশের নাম্বার দিয়ে বাসায় আসতে বলি সে ফোনও করেনি বাসায় ও আসেনি। পরে ঈদের সময় সর্বশেষ ঈদ মোবারক জানায় ম্যাসেঞ্জারে এবং এটি তার সাথে আমার শেষ যোগাযোগ। তারপর সে কখনো আমাকে ফোন ও করেনি কোন যোগাযোগও করেনি বা তার হয়ে অন্য কেউও যোগাযোগ করেনি।

আজ খুবই দুঃখজনক সংবাদটি পেলাম সে আমাদের মাঝে নেই এবং সাথে আমার সমালোচনা করে অতিরঞ্জিত করে আমি তাকে বিদেশ নিয়ে আসবো ইত্যাদি এবং তার সকল দায়িত্ব আমার যে স্নেহাস্পদ ভাইয়েরা আমার সমালোচনা করছেন।

আপনারা কি কেউ সরাসরি আমার নিকট জানতে চেয়েছেন? তাই না জেনে শোনা কথায় এভাবে সমালোচনা মুখর হলে তাতে আগামীতে কারো সমস্যায় সহযোগিতা করতে আমাকে কি চিন্তা করতে হবে, সাহায্য করতে গিয়ে কি গালি খেতে হবে ইত্যাদি এবং এতে আওয়ামী পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই আমার অনুরোধ না জেনে অহেতুক সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন কারণ সমালোচক ও আমার ভাই তার বিরুদ্ধে আমি যেতে পারিনা আমরা দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী। ইনতাজের সাথে কথপোকথনসহ যাবতীয় ডকুমেন্ট ছবি সংযুক্ত আছে।

 

সূত্র : সিলেট ভিউ