বিয়ানীবাজারে জমি নামজারীতে হয়রানী: দুই মুক্তিযোদ্ধার আহাজারী

স্টাফ রিপোর্টার:

বিয়ানীবাজারে জমিজমা নামজারী নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত প্রায় দুই মাসে মাত্র ২টি নামজারী করেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কার্যালয়। এতে জমিজমা ক্রয়বিক্রয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর জমিজমা বিক্রয় কমে যাওয়ায় সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে জমিজমা নামজারীতে রহস্যজনক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে উপজেলার সাধারণ মানুষকে বেশ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জমিজমা বিক্রি করতে না পারায় অনেক কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা বিপাকে পড়েছেন। বিদেশগামী অনেক তরুণ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় দুই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল জব্বার ও মুক্তিযোদ্ধা হাজী এম এ মন্নান দীর্ঘদিন থেকে জমি নামজারী করতে না পেরে রীতিমত আহাজারি করছেন।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন, প্রায় চারমাস আগে নামজারীর জন্য অনলাইনে (নং ১৫৬৭৬৫৬) আবেদন করলেও এটি এখনো ফাইলচাপা পড়ে আছে। অপর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মন্নান অভিযোগ করেন, তিনি নামজারীর জন্য কয়েকমাস আগে আবেদন করেছেন। সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও তারনামে জমি নামজারী করতে কালক্ষেপন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অথচ একই দাগের জমি বিগতদিনে অপর আরেকজন অংশ মোতাবেক নামজারী করে নিয়েছেন।
যদিও নামজারীর ক্ষেত্রে ভূমি কার্যালয় থেকে অনলাইন পদ্ধতিকে দোষারুপ করা হচ্ছে। ভূমি কার্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইনে আবেদনের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। একটি নামজারী আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্ধারিত ২৮দিন লাগার কথা থাকা থাকলেও মাসের পর মাস থেকে আবেদনগুলো পড়ে আছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গত ২ মাস যাবৎ নামজারী না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জমির মালিকরা। তাদের অভিযোগ, নতুন সহকারী কমিশনার খুশনুর রুবাইয়াত যোগদানের পর থেকে কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও নামজারী করা হচ্ছেনা।
কয়েকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুরে দেখা যায়, গত ২ মাসে জমাকৃত কোন আবেদনপত্রই যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নতুন কোন নামজারীতে স্বাক্ষর না করার কারণে আবেদনগুলো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রেখে দেয়া হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খুশনুর রুবাইয়াত জানান, অনলাইনে আবেদনের নিয়ম করায় প্রথমদিকে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এখন অবশ্য সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।