বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগের সম্মেলন: লাউতা ও পৌরসভার কাউন্সিল তালিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ ডেস্ক ::::

উপজেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলের তালিকার মধ্যে ৯ ইউনিয়ন নিয়ে কোন প্রশ্ন না থাকলেও লাউতা ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাউন্সিল তালিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । লাউতা ইউনিয়ন ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিল তালিকা করেছেন জানালেও তাদের তালিকার বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি লাউতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থী নির্ধারণে তৃনমূলের ভোট দিতে পারেননি। সে সময় তাদের বেধ্যতা নিয়ে ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন।

যাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলায় ২০১৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণে তৃণমূলের ভোট নেয়নি জেলা আওয়ামী লীগ তারাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য কাউন্সিল তালিকা প্রণয়ন করেছেন। তাদের বৈধ্যতা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন রয়েছে অথচ তাদের করা কাউন্সিল তালিকা কিভাবে বৈধতা পায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

লাউতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক জালাল উদ্দিন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ পূর্বে ২১ জনের তালিকা করেছিল। আমরা নতুন আরো ১০ জনের নাম তালিকায় সংযোজন করেছি মাত্র। তিনি বলেন, আমার উপর যদি কেউ উপর থেকে দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে চায় আমি যে চাপ নিতে রাজি নই। সংগঠনের নিয়ম মেনেই আমি তালিকা করেছি। গত তৃনমূলের ভোটে সংগঠনের প্রার্থী নির্ধারণে লাউতা ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সভায় জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের সামনে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী হট্টগোল করেছেন। সেজন্য ভোট নেয়া থেকে বিরত তাকে জেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে পৌরসভার কাউন্সিল তালিকায় পূর্বে করা ২১ জনের তালিকায় রদবদল করা হয়েছে। বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা ২১ জনের সাথে গঠনতন্ত্রের আলোকে আরো ১০ জন বর্ধিত করার নির্দেশ দেন।এ নির্দেশে কাউন্সিলর তালিকায় যদি কেউ প্রয়াত হন কিংবা উপজেলা তালিকায় নাম রয়েছে শুধু তাদের নাম বাদ দিয়ে সংযোজন করার নির্দেশ দেন। জেলা আওয়ামী লীগের এ নির্দেশ না মেনে পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা নতুন করে ৩১ জনের তালিকা করেছেন। এতে পূর্বের তালিকায় থাকা আব্দুল কুদ্দুছ টিটু নামসহ বেশ কয়েক জনের নাম নতুন তালিকায় নেই।

কাউন্সিল তালিকায় পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে কারো নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলরা। তারা ক্ষোভের বিষয়টি লিখিতভাবে পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল অবহিত করেন। কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে এ নিয়ে কোন দায়িত্বশীলদের কোন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় গত ৩ নভেম্বর পৌর আওয়ামী লীগের জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বর্জন করে পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ৯ ওয়ার্ডের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা।

এ নিয়ে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদ বলেন, গঠনতন্ত্রের নিয়ম মেনে কাউন্সিল তালিকা আমরা প্রণয়ন করেছি। পৌর আওয়ামী লীগের বাইরে আমরা কাউকে কাউন্সিল তালিকায় রাখিনী। তিনি বলেন, ২১ জনের কাউন্সিল তালিকার বিষয়ে আমরা অবহিত ছিলাম না- সেটি বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছি। যে তালিকা আমরা প্রণয়ন করবো সেটি যদি অন্য কেউ আমাদের অজ্ঞাতসারে করে সেটা আমরা মেনে নেইনি বলেই নতুন করে কাউন্সিল তালিকা করেছি। তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে যদি তালিকা করে থাকলে এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে গঠনতন্ত্র মেনে তালিকা করলে আমাদের তালিকা বৈধ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান বলেন, সব ইউনিট থেকে কাউন্সিল তালিকা পেয়েছি। কয়েকটি তালিকা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনুযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ইউনিয়ন নির্বাচনের পূর্বে সংগঠনের তৃণমূলের ভোটে লাউতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুইটি পক্ষের হট্টগোলের কারণে ভোট নেয়া থেকে জেলা আওয়ামী লীগ বিরত থাকে। এছাড়া অন্য ৯ ইউনিয়নের তৃণমূলের ভোট গ্রহণ করা হয়েছিলো।