কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৭

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা স্টেশনে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭। এখনো অনেকে ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। গুরুতর আহতদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৮ নারী এবং ১ শিশু রয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোর রাত ৩টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার নিহত ১৭ জনের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় সনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করছেন।

এখন পর্যন্ত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২), হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আইয়ুব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), ইয়াসিন (২৮), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসুফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪)।

নিহতদের মধ্যে আবিদা নামে দুই বছরের এক শিশু রয়েছে। নাম জানা গেলেও আবিদার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদিকে উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছে। ঘটনাস্থলে দুটি রিলিফ ট্রেন যোগ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে ছিল। মন্দভাগ রেল স্টেশনের কাছে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুটি ট্রেনেরই বেশ কয়েকটি করে বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও রেলওয়ে থেকে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এসব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।