বিয়ানীবাজারে নতুন দুই করোনা রোগীর বাড়ি লকডাউন

বিয়ানীবাজারে নতুন করে করোনা আক্রান্ত দুইজনের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।শনিবার (৩০ মে) সকালে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো আব্দুস শুকুর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আবু ইসহাক আজাদসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা নতুন আক্রান্ত দুই রোগীর বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন। পরে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা সকলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীলরা। এছাড়া আক্রান্ত দুই রোগীসহ তাদের পরিবারের সকল সদস্যদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পৌরশহরের প্রধান সড়ক সংলগ্ন গিফট কর্ণারের স্বত্ত্বাধিকারী আলী আহমদ কুনু মিয়া (৫৬)। আলী আহমদ কুনু মিয়ার বাড়ি পৌরশহরতলীর খাসাড়ীপাড়া গ্রামে। তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথা ও দুর্বলতা ও খাওয়া-ধাওয়ায় অরুচি রয়েছে। অন্যজন হচ্ছেন পৌরশহরতলীর ফতেহপুর গ্রামের রোটারিয়ান এখলাছুর রহমানের ছেলে রেদওয়ান আহমদ (১৯)। রেদওয়ান আহমদ বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের করোনা পজেটিভ মনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে ছিলেন। তবে তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. আবু ইসহাক আজাদ বলেন, ব্যবসায়ী আলী আহমদ কুনু মিয়া গত এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। তাঁর শরীরে জ্বর, ব্যথা, দুর্বলতা ও খাওয়ায় অরুচিসহ করোনার উপসর্গ রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি আমাদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসায় আপাতত বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে, তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হবে। তবে এ ব্যবসায়ী কিভাবে আক্রান্ত হলেন তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, রেদওয়ান আহমদ নামের আক্রান্ত অন্যজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ না থাকায় তাকেও বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের নতুন আক্রান্ত দুজনকে নিয়ে বড়লেখার এক যুবকসহ বিয়ানীবাজারে ১০জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গবিহীন শনাক্ত হওয়া প্রথম ৫জন করোনা রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ষষ্ঠ রোগী মোল্লাপুরের রহিমা বেগম (৪৫) ও সপ্তম রোগী মাথিউরা নালবহর গ্রামের সায়েম আহমদ (৯) এর শরীরেরও করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ নেই। তারা দুজন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক তাদেরকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নেয়া নমুনায় করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়া বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের মনোয়ার হোসেনের (৩০) নামের আরেক রোগীর শরীরেও উপসর্গ নেই। তাকেও বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীলরা।