বিয়ানীবাজারে নতুন করোনা আক্রান্তের পরিচয় গোপন রাখায় প্রতিক্রিয়া

ডেস্কঃঃ

বিয়ানীবাজারে নতুন করে আরো আক্রান্ত ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা জানালেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীলরা তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেন। হুট করে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছেন না ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। এতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নাম গোপন রাখার বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কারো কোন স্বার্থ জড়িত আছে কি না এনিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন। কলেজ রোডের ব্যবসায়ী সুমন আহমদ বলেন, এরকম সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমাদের মনে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে দায়িত্বশীলরা কোন বিশেষ আক্রান্তের পরিচয় গোপন রাখতে হয়তো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সকল আক্রান্তের সংস্পর্শে আাসাদের নমুনা গ্রহণসহ সাধারণ আক্রান্তদের কর্মস্থল ও আবাসস্থল যেভাবে লগডাউন করা হয় সেভাবে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, করোনায় আক্রান্তদের পরিচয় গোপন রাখলে ঝুঁকি বেড়ে যাবে। আমাদের বেশিরভাগ মানুষ অসচেতন, যার কারণে যে আক্রান্ত হয়েছে সেও নিজ ঘরে না থেকে বেরিয়ে পড়বে।

অনেকে নতুন এ সিদ্ধান্তের কারণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার আশংকা করেন। তাদের একজন চুনু মিয়া। তিনি বলেন, যে ধারাবাহিকতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফেসবুক পেইজে বুলেটিন দিয়ে আসছিলো তাতে গতকাল ছন্দপতন ঘটে। আমার মনে হয়েছে এ বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন ভূমিকা থাকতে পারে।

রবিবার রাতে করোনা আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে বিজিবি ৫২ ব্যটালিয়নের ৩ সদস্য, পৌর শহরের আলফা পলি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সাদিক আহমদ। তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আবু ইসহাক আজাদ বলেন, ডা. সাদিক সিলেটের নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তাঁর চিকিৎসা সেখানে হবে।

আক্রান্তদের মধ্যে বিশেষ কারো নাম পরিচয় গোপন রাখতে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা করোনা রোগীকে সামাজিক হেয় থেকে রক্ষা করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের ম্যাসেজ করে সামাজিক হেনেস্তা হওয়ার কথা জানিয়েছেন, তাছাড়া একজন চিকিৎসক হিসাবে রোগীর ব্যাক্তিগত গোপণীয়তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে নয়, স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনের দায়িত্বশীল সব দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেন।

করোনা বিশ্ব মহামারি, এটি কোন নিষিদ্ধ রোগ নয় তাহলে স্থানীয় প্রশাসন আক্রান্তের পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে এনিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। প্রভাষক আব্দুছ সামাদ বলেন, এ ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে আক্রান্তদের আরো বেশি করে হেয় করা হবে। কারণ গোপন বিষয়টি জানার মানুষেয় আগ্রহ বেশি থাকবে। কৌতুহল থেকে মানুষ আক্রান্তদের পরিচয় বের করবে। গোপন কিছু থাকেনা। কিছুই গোপন রাখা যায় না।

গণমাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা জানালেও বরাবরের মতো পরিচয় জানাননি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আবু ইসহাক আজাদ। তিনি পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব বলেন, যারা সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে পারেন শুধু তাদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে বলেছি। ঢালাও ভাবে সবার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি বলা হয়নি। তিনি এ বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।