সাংবাদিক মাহবুব হত্যাচেষ্টা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সায়ন গ্রেফতার

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এনটিভি ইউরোপের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যতম আসামী সায়ন আহমদকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সায়ন আহমদ পৌরসভার রণকেলী নয়াগ্রামের মৃত মজন আলীর বড় ছেলে। সে দেড় বছর থেকে সাজা পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পলাতক ছিলো। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলা নং জিআর ৩০/২০১৬। মামলার অপর ৫ আসামী জেল খেটে আপীলে জামিন পেয়েছে। এর মধ্যে একজন আসামি বিদেশে পালালেও অন্যতম আসামী সায়ন সাজাপ্রাপ্ত হয়েও আদালতের রায়কে অবজ্ঞা করে জামিন কিংবা আপিল আবেদন না করেই পলাতক ছিলো। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সায়নকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানাগেছে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সায়ন ও তার ভাই দিদারুল আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক মাহবুবের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ও বাম হাতের হাড় ভেঙ্গে ফেলে।

এই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৭ ফ্রেবুয়ারী সাংবাদিক মাহবুব বাদী হয়ে আসামী সায়ন তার ভাই দিদার ও মঞ্জুর সহ ৬জনের নাম উল্লেখ করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চার্জশীট আদালতে গৃহীত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারী সোমবার দুপুর ২টায় শুনানী শেষে সিলেটের বিচারিক ১ম আদালত বিচারক মো: হারুনুর রশীদ রায় ঘোষনা করেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন আসামীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান আসামী দিদারুল আলম দিদারকে দন্ডবিধির ৩২৫ ধারা মোতাবেক ২বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দন্ডিত করা হয়। এছাড়াও আসামী সায়েন আহমদ, মঞ্জুর আহমদ, জেবুল আহমদ, কামরুল ইসলাম, রাজন আহমদকে দন্ডবিধির ৩২৩ ধারা মোতাবেক প্রত্যেককে ১বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং দন্ডবিধির ৩৪১ ধারায় সকল আসামীকে ৫শত টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৫দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।